ইআরএফের সেমিনারে নৌসচিব

ডিসেম্বরের মধ্যে তিন টার্মিনাল যাবে বিদেশী অপারেটরের হাতে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও লালদিয়া এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল ডিসেম্বরে মধ্যে বিদেশী অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও লালদিয়া এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল ডিসেম্বরে মধ্যে বিদেশী অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ।

রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে গতকাল সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগ সম্ভাবনা-সংক্রান্ত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। ‘ইনভেস্টমেন্ট পটেনশিয়ালস ইন দ্য ওশান-গোয়িং শিপিং ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে ইআরএফ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ওশান গোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পকে এগিয়ে নিতে ২০১৮ সালে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ খাতের কর ও মূসক মওকুফ করা হয়। এর ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই জাহাজের সংখ্যা ৩৫ থেকে বেড়ে ১০২-এ দাঁড়ায়। এছাড়া জাহাজে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশী সিফেয়ারারদের (সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত ব্যক্তি) রেমিট্যান্স বাবদ ৭৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। সব মিলিয়ে এ খাত থেকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করে সরকার। তাই এ খাতকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে পোশাক শিল্পের পর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিকল্প উপায় হতে পারে সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্প।

সম্প্রতি জাহাজ আমদানি পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ মূসক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিষয়টিকে ইতিবাচক মন্তব্য করে আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘বেসরকারি খাতই বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারে। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতে সমঅধিকার দিলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।’ ফলে দেশও উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও লালদিয়ার চর এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশী অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে। ডিসেম্বরেই এ চুক্তি সম্পাদন করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশী অপারেটর ৩০ বছর পরিচালনা করবে। পাশাপাশি বাকি দুটি টার্মিনাল ২৫ বছর মেয়াদে পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হবে।’

প্রায় ৪০ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মাশুল বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে নৌ-পরিবহন সচিব বলেন, ‘১৯৮৬ সালের পর এ বছর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মাশুল বাড়ানো হয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মাশুল পর্যালোচনা করা দরকার ছিল। গত ৪০ বছরে কোনো মাশুল বাড়ানো হয়নি, তাই এটি কমানোর সুযোগ নেই।’

ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার। তিনি বলেন, ‘পোশাক খাতের বাইরে হাতেগোনা কয়েকটি খাত ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পেরও সে সুযোগ রয়েছে।’ এজন্য ব্যাংক গ্যারান্টিসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বক্তারা জানান, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৮৪ শতাংশই অর্জিত হয় তৈরি পোশাক রফতানির মাধ্যমে। পোশাক শিল্পের পর আর কোনো খাতই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে খুব একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্প বিকল্প হতে পারে বলে দাবি করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, পণ্য পরিবহনের জন্য দেশের বন্দরগুলোয় বছরে প্রায় পাঁচ হাজার জাহাজের আগমন ঘটে। এসব জাহাজের ভাড়া বাবদ গড়ে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। সমুদ্রগামী জাহাজে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মালিকানার পরিসর খুব ছোট হওয়ায় এ অর্থের পুরোটাই চলে যায় দেশের বাইরে। আবার জাহাজের নাবিক ও প্রকৌশলীরাও বছরের প্রায় আট মাস বেকার থাকেন। কর ছাড় দিয়ে জাহাজ শিল্পকে বিকাশের সুযোগ দিলে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

আরও